জ্ঞান নদী পারাপার ও অন্যান্য কবিতা

 

সাদা ফুল, করোনায়

কবর ফুটে উঠতে শুরু করেছে চারপাশে
যেন অন্ধকারের ভেতর ফুটে ওঠা টগর

সাদা সাদা, ঝোপ ঝোপ, সারি সারি।

আমি মৃত্যুর ঘ্রাণ পেতে শুরু করেছি 
প্যাকেট মোড়ানো সাদ সাদা কফিন হতে

আর আশ্চর্য 
আমার চুলও সাদা হয়ে উঠছে দ্রুত
কফিন ও কবরের ঘ্রাণে।

কেউ যেন হাঁটছে বারান্দায়
মৃত্যুর গন্ধমাখা নরম, শতপায়। 

এই সাদা সাদা ফুলে, ফুলের ভেতর জেগে ওঠা কবরগুচ্ছে
একদিন কালো হয়ে উঠবে ইতিহাসের সাদা সাদা পৃষ্ঠা
লোকে বলবে, মানুষ সেবারও মানুষ মরেছিল হাজারে হাজারে

করোনায়। 

আমিও।

টগর ফুলটি যেন ফুটে সে অচেনা সাদা কবরের শিয়রেও। 

 

মহামারি শেষে 

মরে গেলে এই মহামারি শেষে
অমনি বৃষ্টি হবে
ও বন জুড়ে

ঝুম।

অমনি ফুটবে বনে বনে 
কৃষ্ণচূড়া লাল

বুম।

অমনি তরুণী হবে কিশোরীরা
এই রূপসী রমণী দেশে

চুম।

অমনি জ্যোৎস্না ছড়াবে পূর্ণিমা রাতে
আকাশ ফাটিয়ে চাঁদ

ধুম।

শুধু আমি থাকবো না
বুঝলে হে করোনা

হুম।

 

ঘর

একটুখানি ঘরের জন্যই তো
আমাকে এত বাহিরে ঘুরে মরতে হয়
ঝড়, বৃষ্টি, আগুন ঝঞ্ঝায়, একেলা সন্ধ্যায়।

দিগন্ত বিস্তারী আকাশও আমাকে এতটা
খোলা স্থান দিতে পারে না, যা পারে ছাদের নিচের এতটুকু।

আমি দশ ফুট বাই দশ ফুট ছায়ার জন্য ঘুরিয়া বেড়াই দশ দিগন্ত।

বৃক্ষকে সকলে প্রশংসা করে ছায়ার জন্যই তো?
অথচ কতই তুচ্ছ সে তোমার আঁচলের কাছে
আমি তোমার একটুখানি আঁচলের ছায়ার জন্য
কত না দ্রুত ঘরে ফিরি ফেনা, রক্তমাখা পায়।

শান্তা।

 

জ্ঞান নদী পারাপার

গুরু পার হবেন জ্ঞান নদী।

আমরা এসেছি আজ নদী তীরে
দেখে ঢেউ থরহরি, উপরন্তু শীত। 

আমরা তীরে বসে গুনছি ঢেউ আর
ভাবছি জলের মধ্যেই আছেন মৎস্য কন্যাগণ

আমাদের পাঠে মোটেই মন নেই।
কী করে পার হবো জ্ঞান নদী
গুরুই হাবুডুবু।

আমরা শর্টকাট পারের কথা ভাবছি।

ওই যে দূরে রাখাল বালক, তাকে ডাকো 
সে বনিয়েছে ভেলা কলাগাছের
তাই চড়ে ওপারে যাবো, জ্ঞাননদী পার হয়ে।

আমরা এসেছি জ্ঞান নদী পার হয়ে
দ্যাখ, জল কাদা কিছুই গায়ে লাগেনি।