বনহুর ও অন্যান্য কবিতা


প্যান্ডেমোনিয়াম

জগদীশচন্দ্র বসু—অব্যক্তের নেক্সট এডিশন
ইনবক্সে পাঠায়ে হ্যাশে প্রুফ দেখতি ক’লেন,
আমি তাঁকে ব্লকানোর পাক্কা ডিসিশন

নিব কি নিব না, অমনি চিয়াং কাইশেক
বন্ধুত্বের হ্যান্ড বাড়ান, এইসব চ্যাংব্যাং
দেখলেই, ব্লগার ফ্রেন্ড মৌলানা আজাদ
ইমোজি পাঠান, যার ভাবার্থ ঘ্যাচাং।

আমি কইলে আপাততঃ সুস্মিতা সেনের
ইনবক্স স্প্যামাতে ব্যস্ত শেরোপরি শের
বাংলায় তরজমা ক’রে, মির্জা-তো বুঝবে না,
অভ্রের জঙ্গলে তন্বী-সুনন্দার শের।

রাইমা সেনের নামও শোনেন-নি বললেন
ইন্যাক্টিভ নানা-ফ্রেন্ড কলকাতার রবীন্দ্র ঠাকুর—
পরদিনই দেখি-কি, আল্লাহ! চুলদাড়ি-কুচকুচা-
-কালা সেল্ফি! নানা, নানা সাহেবের চেয়েও চতুর!

সমীরণে ভঙ্গ দেই, ধ্বজ, সেও ওড়ে না মকরে,
দশমূলারিষ্ট থেকে সারিবাদি বা মশারি বাঁধি
লুই-কাহ্নের সংসদ ভবনে, তিনশ’ বামাতি আলেম—
শক্তি- ও সাধনাহীন কাঁচা-পাকা কাঁদি

দোলে আগে, ঝোলে পিছে, সরপুঁটির ঝোলে
সাঁতরায় বাইগুন, না না, প্রাণনাথ, কলিগে ও লীগে
সপ্তকাণ্ড কণ্ডূয়ন, বারোমাসি মাসি—
সীমারের বাপে করে সীমারের স্ত্রীকে।


সুধাকরদা আসছে

সাইদ, তপনার বাড়ি যাই, চল্,
সুধাকরদা নাকি আসছে
সিলেট থিকা তাঁতীবাজারে,
বামনার হামও ব’লে সারছে।

ফাল দা নামে জাদু ছাদ থে’
কমলা বেলুনের নীল গ্যাস
অস্সুবিধা-তো সুবিধাই-রে,
শুরুর আগেভাগে স্টিক শ্যাষ।

কোর্টকাচারি চিপা গল্লি
অসীম ট্যাম পাড়ে, হাঁটে না,
পত্রিকার বক্তৃতা
কেউ-তো তারে কান পাতে না।

শাহিনের দোকানে মঞ্জুদা,
থরে-বিথরে মিল্কভিটা দুধ,
কান্নাকাটি করে এরশাদ,
শাহাজিজ, আর কে? মৌদুদ?

বান্দরগুলাও নাই তো-রে,
সায়া-বেলাউস চুরি করতে,
চল্ মালাউন খুঁজি গোটাকয়
কাপড়গুলিতে ভরতে।

ডালিম একা খায় হালিম,
হালিম একা খায় ডালিম,
হালিম ডালিম একা খায়,
একা খায় ডালিম হালিম।

সাইদ, তপনার বাড়ি যাই, ল,
লৌহাতে-যে আমি আইজ কট্—
গার্ল্জ্-স্কুলের রাঙা রাস্তায়
টহল দিতে থাউক শওকত।


নির্দীপ

এ-বন, এ-যে পোড়া কাঠি-কাঠি,
কারণ এ নয়, যে, সে ফিরে গেছে এসে,
কারণ বরং, ইয়ে, মোটে আসে-নি সে,
এসেছিল তারই কোনো যমজ প্যাঁকাটি।
বালিয়াড়ি সাঁতরাও, বালিয়াড়ি সাঁতরা, রে ফাতরা!
কত দুধ দেবে গেলে শতধারে গলে আলকাতরা?
মাথা নাড়ে শ্যাওড়ারা, খাড়া হয় ধনেশের নাক,
বাংলাদেশের বুকে যাক ঢুকে যাক, যাক ঢুকে যাক, যাক ঢুকে যাক
পোয়া-পোয়া-ভর পোয়ামাছ,
হাজার-হাজার নীল-নিয়ন-জ্বালানো পোয়ামাছ।

সে-কি এসেছিল, নাকি তার মায়া?
না কায়ার পিছে সে-ই ছিল ছায়া?
কেউ খেয়ালই করে-নি আর আমিও না,
ফলে এই বিভাবরী হাজার-নিয়না:
আয়ে না বালম, হায়, কা করু সজনি…
এয়েছিল, খরখরে তালুর তলায়
চেপে ধ’রে রেখে জ্বালামুখ,
আমি তার তালামুখ খোলার আগেই সাত-পাতালে তলায়
কামাখ্যা, যোনির ঝিনুক।

দুয়ারে নায়রি, গাও তোলো পালকি,
দূরে যায়, উত্তরে, মেরা মালকিন,
আমার ভাষায় তারে করো পরকাশ,
রুমি! তুমি সবই জানো, সে আমার শ্বাস,
আমার যকৃৎ, প্লীহা, ছিনায় সে খুন,
আমার উনুনে সে-তো নীলাভ আগুন
নিবে গেছে কাল।
চকচক ঠকঠক নাচে কঙ্কাল।


বনহুর

বৈকালে ব্রেকফাস্ট সারি’ রাতের লাঞ্চের চাউল মাপি
তৎক্ষণ এত্তেলা দেন লাইভে আসি’ মুফক্কর ভাবি

ভায়ের করোনা, তারে লিমা বীন গিলায় রাখতেছে,
ও নেগেটিভ লাগবে— লৌন চোকাবেন গয়না বেচে।

ব্লাড-কি ইমেলে দিব? নাকি ওয়ালে পোস্টালে পাবেন?
নেক্সট মান্থে, জানালেন, আসতেছেন কোপেন হাগেন।

খৈনি খাই-নি কস্মিন্কাল, বাবা জর্দা, দোক্তা, সদাপ্রভু,
আমারই কিসমত কেনে ভাবিদের অভাবিতা তবু?

এখন কোনাই যাই, কোণ্ঠেয়ে পলাই, চৌকি ক’নে?
এহেন আজাবে ঐটা ওহি নাকি গগনে-গগনে?

লামতে-লামতে বড় হয়, ছিল মাছি, হয়া গেল মাছ,
পরি-শেষে পঙ্খি আর পঙ্কিরাজে নির্দ্বন্দ্ব সমাস।

লামলেন ডিগবাজি দিয়া, কোমরে টিনের তলোয়ার—
ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থাকলে মিলিয়ন জুটত ফলোয়ার…

ভীমসেন হাঁকেন যোশী: কুত্র তুমি, পুত্র রহমান?
উত্তিষ্ঠ! রেস্কিউ করতে যাওয়া লাগবে নুরিকে। মহান্

সর্দার হামারা, আছি; আপোনার হুকুম-বর্দার।
আরোহ করহ— উনি এরশাদ করেন— খবরদার!

পাঙ্খাটা বাঁচায়া! আমরা অ্যাস্ট্রাডল কনকেভ আকাশে,
পাঙ্খা-তো গলিয়া গেল টরন্টো, বা উক্ত ধারেকাছে।

ধর্মপত্নী উপবিষ্ঠা পাকা-ঘাসে মাসুদ খানের,
মুফক্কর ভাবি তথা, খোয়া গেছে তাঁর এক-কানের

কানেট। পরনে তাঁর মোরগ-পেখম।